শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বন্যহাতির তাণ্ডবে প্রায় চার একর জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আন্দারুপাড়া-খলচান্দা এলাকায় পাহাড়ি বন্যহাতির একটি দল ফসলি জমিতে নেমে এ তাণ্ডব চালায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে ১৫ থেকে ২০টি বন্যহাতি বারোমারী মিশন ও খলচান্দা কোচপল্লী সংলগ্ন এলাকার ফসলি জমিতে খাবারের সন্ধানে নেমে আসে। এ সময় হাতির পাল ধানের চারা খেয়ে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে প্রায় চার একর জমির আমন ধান নষ্ট করে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমান আলী বলেন, “সন্ধ্যা নামতেই হাতির পাল আমাদের ক্ষেতে হানা দেয়। হঠাৎ করে হাতির আক্রমণ হওয়ায় আমরা ফসল রক্ষার কোনো সুযোগ পাইনি। সরকারের কাছে আমরা এ ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”
কৃষকরা জানান, কয়েক দিন ধরে নালিতাবাড়ীর বুরুঙ্গা, কালাপানিসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যার পর বন্যহাতির পাল লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে নেমে আসছে। এতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। হাতির আতঙ্কে সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিষয়টি বন বিভাগকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। এরপর বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”