শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় লিমা আক্তার (নববধূ) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী একরামুল ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত লিমা আক্তার হালুয়াঘাট উপজেলার মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। গত ১৫ অক্টোবর পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো তৈজসপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়িতে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তাঁদের দাবি, লিমাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফেরেন লিমা। ওই রাতে তাঁর অসুস্থতার কথা জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন স্বামী একরামুল। পরে বুধবার ভোররাত প্রায় চারটার দিকে তাঁকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, স্বামী একরামুলের দাবি, ঘুম থেকে উঠে তিনি লিমাকে পাশের একটি ঘরের সানশেডে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।