শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শালমারা গ্রামে সরকারি কবরস্থান না থাকায় বসতঘরের ভেতরেই দাফন করা হয়েছে ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়াকে। স্বামীর মৃত্যুর পর সেই ঘরের এক পাশে তাঁর কবর, অন্য পাশে বসবাস করছেন স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৬০)। ঘটনাটি এলাকায় মানুষের মধ্যে বেদনা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে মারা যান করিম মিয়া। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাঁকে নিজেদের বসতঘরের ভেতরেই দাফন করা হয়।
করিম মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁর থাকার ঘরসহ তিন শতাংশ জমি ফুফুর কাছ থেকে কিনে নেন তিনি। জমিটি কেনার পরও ওই ঘরেই তাঁর বাবা-মা বসবাস করছিলেন।
কোতুলী বেগম বলেন, “আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। আরেক বোন স্বামীর বাড়িতে থাকেন। বাবাকে কবর দেওয়ার মতো আমাদের কোনো জায়গাজমি নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরেই কবর দিতে হয়েছে। এলাকায় সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানে বাবাকে দাফন করতে পারতাম। কিন্তু এখানে সেই ব্যবস্থা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ মিয়া জানান, একসময় করিম মিয়ার জায়গাজমি ও প্রতিপত্তি ছিল। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তাঁকে জমি বিক্রি করতে হয়। একপর্যায়ে পরিবারের আর্থিক সংকট ও জমির অভাবে মৃত্যুর পর তাঁর দাফনের জন্যও উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যায়নি।
করিম মিয়ার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক মেয়ে ও ছেলে ঢাকায় থাকেন, অন্য মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। স্বামীর মৃত্যুর পর সাজেদা খাতুন এখনো সেই ঘরেই বসবাস করছেন। ঘরের এক পাশে স্বামীর কবর, অন্য পাশে তাঁর থাকার জায়গা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এলাকায় সরকারি কবরস্থানের ব্যবস্থা থাকলে করিম মিয়াকে বসতঘরের ভেতরে দাফন করতে হতো না। ঘটনাটি গ্রামীণ এলাকায় সরকারি কবরস্থানের প্রয়োজনীয়তা এবং ভূমিহীন ও অসচ্ছল পরিবারের দাফনের জায়গা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এনেছে।