শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় ২৫টি মশারি বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাজ্জাৎ হোসেনের কাছে মশারিগুলো হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও মশারি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত শেরপুর সদর হাসপাতালে ৩০১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী। তাঁদের বেশির ভাগই ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শেরপুরে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর সদর হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল এখনো মূলত ১০০ শয্যার উপযোগী। ফলে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এর মধ্যে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির সংকটও দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে মশারি সরবরাহ করা হলেও সুস্থ হওয়ার পর অনেক রোগী তা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় এ সংকট আরও বাড়ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাজ্জাৎ হোসেন বলেন, শয্যা ও জনবলসংকটের মধ্যেও ডেঙ্গু রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে মশারির সংকটের কারণে রোগীদের প্রয়োজন মেটাতে সমস্যা হচ্ছিল। জেলা প্রশাসনের দেওয়া মশারিগুলো রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, হাসপাতালে মশারির সংকট বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত ২৫টি মশারি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আরও মশারি সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে নিয়মিত মশা নিধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মশারি হস্তান্তরের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাসলিম আরিফ, মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. আসাদুজ্জামান এবং শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।