শেরপুরের একমাত্র বেসরকারি হিমাগার তাজ কোল্ড স্টোরেজে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়েছে। এতে জেলার শত শত কৃষক ও ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে বীজ আলুর সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলার বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত তাজ কোল্ড স্টোরেজ জেলার কৃষকদের জন্য বীজ ও খাদ্য আলু সংরক্ষণের অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। হিমাগারটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার বস্তা আলু।
জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই হিমাগারের রেফ্রিজারেশন ইউনিটের একটি পাইপ ফেটে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক শুরু হয়। এতে তিনটি সংরক্ষণ চেম্বারের মধ্যে দ্বিতীয় চেম্বারে রাখা প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেট্রিক টন আলু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন,
"আমার ৫১ বস্তা বীজ আলু ছিল। সবই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সামনে কীভাবে চাষ করব, বুঝতে পারছি না।"
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শেরপুর জেলায় ৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯০০ মেট্রিক টন। সরকারি দুটি হিমাগারের ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ কৃষক তাজ কোল্ড স্টোরেজের ওপরই নির্ভরশীল। প্রতিবছর ভালো দামের আশায় এবং পরবর্তী মৌসুমের বীজ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য এখানেই আলু রাখেন তারা।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন,
"আমার ১ হাজার ৬৪০ বস্তা আলু ছিল। সব নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কীভাবে এই লোকসান সামলাব, সেটাই চিন্তা।"
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, নষ্ট হওয়া আলু বাজারে গেলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে।
তাজ কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,
"দুর্ঘটনাবশত পাইপ ফেটে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক হবে। সেখানে ক্ষতিপূরণসহ পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক। তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষার ফল এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
"জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরীক্ষার ফল ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের একটাই দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
শেরপুরের একমাত্র বেসরকারি হিমাগারে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক: নষ্ট ৫৭ হাজার বস্তা আলু, কোটি টাকার ক্ষতির মুখে কৃষক-ব্যবসায়ীরা