পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর কুলোনিয়া ও আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে তারা বহুতল ভবনটিতে প্রবেশ করে দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে জনসমাগম বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি আড়াল করতে আসামিরা শিশুটিকে খোঁজার কার্যক্রম ও মানববন্ধনেও অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।