শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে রুফিয়া বেগম (৩৫) নামে তিন সন্তানের এক মাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফ হোসেন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চরসাপমারী গ্রামের নিজ বাড়ির উঠানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত রুফিয়া বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রুফিয়া বেগম বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে কোলে থাকা ছোট শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় তার ভাসুর মওলা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন হাতে থাকা ধারালো দা নিয়ে হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আরিফ গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই রুফিয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর রক্তমাখা পোশাক নিয়ে আরিফ নিজ ঘরে গিয়ে গোসল করে আত্মগোপনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। পরে নিজ বসতঘর থেকে আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তার চাচি রুফিয়া বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘর থেকে রক্তমাখা একটি ফুলপ্যান্টও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পারিবারিক বা তুচ্ছ কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।