ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ বঙ্গাব্দ: ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রস্তাব

  • প্রকাশের তারিখ: 05/11/2026, 12:27 AM | ফটো কার্ড
  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • সংবাদটি দেখেছেন: 24
সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রস্তাব

সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায়। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির সংশোধনী খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন আইনটি যেন কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি যেকোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় মোবাইল কোর্টের কোনো বিধান না রাখা, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া এবং কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ প্রদান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্য কাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরিমার্জিত খসড়াটি খুব শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিরোধের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্য বজায় রেখেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আনুমানিক পড়ার সময়: 2 মিনিট
  • সর্বশেষ আপডেট: 05/11/2026, 02:31 AM
ন
নিজস্ব প্রতিনিধি
স্টাফ রিপোর্টার, প্রাইম সময়

প্রাইম সময়ের সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুযায়ী সংবাদটি যাচাই করে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো ভুল তথ্য বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করুন।