‘উনি যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’—রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন নিজেকে তাঁর ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করা আন্নি আক্তার।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরের নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও এক নারীকে পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন আন্নি। এ ঘটনায় মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
নওগাঁর বাসিন্দা নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তারের দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাঁকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব আলমের বিভিন্ন কর্মস্থলে একাধিক সম্পর্ক ও বিয়ের ঘটনা রয়েছে।
আন্নি বলেন, “উনি কীভাবে বলেন কালেমা পড়ে বিয়ে করেছি? এই বিয়ের কি কোনো ভিত্তি আছে? সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে বদলি হওয়ার পরও আমাকে স্বীকার না করে চলে এসে বলেছিলেন, ‘কে চেনে তোমাকে?’ আমার সঙ্গেও তো এই প্রতারণা ঘটেছে।”
ঘটনার বিষয়ে আন্নি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব আলম তাঁর কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ওই ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো থাকায় দরজা খুলতে পারেনি। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও ওই নারীকে বের করে আনেন।
আন্নির দাবি, দরজা খোলার পর মাহবুব আলম ওই নারীকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে সাংবাদিকদের সামনে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, আন্নিকে তিনি চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তালাকের বিষয়ে তিনি কোনো কাগজপত্র পাননি।
ঘটনার পর মাহবুব আলম ও ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানায় পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে গেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি প্রশাসনিক অপরাধ। বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাহবুব আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সাবেক ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে আন্নি আক্তারের করা অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আইনগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।