খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের দক্ষিণ নালকাটা জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারে ২১তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাঁকজমকপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে সকালে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। সকালের পর্বে সংঘপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশের ৫ম মহামান্য সংঘরাজ, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকার মিরপুর আদিবাসী গ্রীন হার্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পরম কল্যাণমিত্র শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ প্রজ্ঞানন্দ মহাথের।
তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় দক্ষিণ নালকাটা জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারের কল্যাণে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।
বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভা। এতে সংঘপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, পার্বত্য চট্টল অনাথ বৌদ্ধ আশ্রম ও প্রজ্ঞা বোধিচারিয়া স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং বোয়ালখালী রাজ দশবল বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পরম কল্যাণমিত্র ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীতানন্দ মহাথের।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার থেকে আগত পূজনীয় ভিক্ষু সংঘ উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ নালকাটা জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ কল্যাণ শ্রী ভিক্ষু স্বাগত বক্তব্য দেন এবং উৎসর্গ পর্বের কার্যাদি সম্পাদন করেন। এ ছাড়া পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ ধর্মদেশনা প্রদান করেন শ্রীমৎ ধর্মশ্রী ভিক্ষু।
উদযাপন কমিটির সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবোধ বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অসেতু বিকাশ চাকমা এবং উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ও পানছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শান্তি জীবন চাকমা।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুনেল চাকমা।
দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসবে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। তারা কঠিন চীবর দান, সংঘদানসহ বিভিন্ন পুণ্যকর্মে অংশ নিয়ে ধর্মীয় অনুশীলন ও উৎসবের আনন্দে শামিল হন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় চেতনা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।