শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের ৮৬ বছর বয়সী সাজু শেখ ও তার ৮০ বছর বয়সী স্ত্রী নুরজাহানের দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় ৭০ বছর। চরম দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা একে অপরকে আগলে রেখেছেন।
প্রায় পাঁচ বছর আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শয্যাশায়ী নুরজাহান। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বার্ধক্য ও অসুস্থতায় সাজু শেখ নিজেও সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না, কমে গেছে শ্রবণশক্তি। তবুও স্ত্রীকে এক মুহূর্তের জন্যও একা ছাড়েননি তিনি।
প্রতিদিন কাঁপা হাতে স্ত্রীকে কোলে তুলে ঘরের বাইরের উঠানে শুইয়ে দেন সাজু শেখ। এরপর পাশে বসে তার প্রয়োজনীয় সব কাজ করে দেন। অভাবের কারণে মাঝে মাঝে কাজের সন্ধানে বাজারে গেলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কেউ তাকে কাজ দিতে চান না। তাই কিছুক্ষণ পরই স্ত্রী নুরজাহানের কাছে ফিরে আসেন তিনি।
সম্প্রতি স্ত্রীকে কোলে নিয়ে সাজু শেখের কান্নাজড়িত আকুতি—‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের।
পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই দম্পতিকে দুই মাসের খাদ্যসামগ্রী, কাপড়, কম্বল ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক প্রতি মাসে তাদের খাবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনও তাদের খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে।
চরম দারিদ্র্য ও বার্ধক্যের মধ্যেও সাজু শেখ ও নুরজাহানের ভালোবাসা যেন প্রমাণ করে—সত্যিকারের ভালোবাসার কাছে জীবনের কঠিন বাস্তবতাও হার মানে।